Sunday, 11 October 2026

MSA

 *শ্রীশ্রীমায়ের পদপ্রান্তে*

🪷🪷🪷👣🪷🪷🪷

_পর্ব - ১৫৫_            

*🪷শ্রীশ্রীমাঃ আমাদের চির-আশ্রয়*

✒️*ভগিনী নিবেদিতা*


পূর্ব পাঠের পর 👇


_শ্রীমা [আমাকে] বলেছিলেন, স্বামীজী সম্বন্ধে আমি যা কল্পনা করতে ভালবাসি, শ্রীরামকৃষ্ণ ঠিক সেই কথাই স্বামীজী সম্বন্ধে তাঁকে বলেছিলেন : স্বামীজী জাতীয় দেবতার [শিবের] সাক্ষাৎ অবতার; আর তিনি [শ্রীরামকৃষ্ণ] কালীর অবতার।_

      _মাতাদেবীর মতো ভালবাসায় ভরা মুখ আমি কোথাও দেখিনি। গাঁয়ে থাকলে তিনি রোগা আর কালো হয়ে যান। [রোগে ভুগে] শরীর যেন একেবারে ক্ষয়ে যায়। কলকাতায় ফিরে এলে দেখি মানুষটি কিন্তু একই আছেন— পূর্বের মতোই সেই স্বচ্ছবুদ্ধি, উন্নত মর্যাদা, নারীত্বের মহিমা – অবিকল। *তাঁকে কত রকমের আরামে রাখতে যে আমার সাধ হয় ! একটি নরম বালিশ, জিনিস রাখার একটি তাক, একটি কম্বল, আরও কত কি দরকার!*_      

         _মাতাদেবী তাঁর একটি সদ্য-দর্শনের কথা [আমাকে] বলেছিলেন : তিনি আমাকে গেরুয়া বস্ত্রে দেখেছেন।_

_শ্ৰীমা যেন পূর্ণ বিশ্বাসের দর্পণ। যদি কাউকে একবার ভালবেসেছেন, সে ভালবাসা চিরদিনের জন্য—এই তাঁর জীবন-সত্য। [স্বামী] যোগানন্দের মৃত্যু ” শ্রীমায়ের কাছে দারুণ বেজেছিল। যখন দাহ করার জন্য তাঁর দেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন ওপরতলা দীর্ঘ ক্রন্দনে আকুল হয়ে উঠল—নিচে পূজার শব্দের সঙ্গে মিশে তা ছড়িয়ে পড়ল। পুরবাসিনীরা বুঝেছিলেন--এতদিন যাঁর ওপর এই গৃহের ভার ছিল, তিনি চিরতরে চলে যাচ্ছেন। যোগীন-মার তুষারশীতল স্তব্ধতা টুটে গেল। মনে হলো, তাঁর ও মায়ের বুক বুঝি ফেটে গেল। [এই ঘটনার পর বেশ কিছুদিন পর্যন্ত] মৃত্যু কথাটি শ্রীমা যেন সইতে পারছিলেন না—–এমনই মানবিক বেদনা। – *“জানি জানি, সে আমার প্রভুর কাছে গেছে-সে কথা আমি জানি--কিন্তু সে যে আ-মা-র যোগীন—-প্রভু তাকে কেড়ে নিলেন !”*_


> _সদানন্দের মুখে একটি মুমুর্ষু বালকের কথা শুনেছিলাম। মা তাকে গঙ্গার ঘাটে নিয়ে যাবার নির্দেশ দিয়েছিলেন। "তাহলে কি আমার মৃত্যু নিকটে?” ছেলেটি বলেছিল। “মায়ের আদেশ”-এই বলে ওঁরা কথা এড়িয়ে গেলেন। ছেলেটি তৎক্ষণাৎ বলল—“নিশ্চয়ই। মাকে আমার প্রণাম। তাঁর কথা তো শুনতেই হবে। আপনারা আমাকে নিয়ে চলুন।” তখন ওঁরা শয্যাশুদ্ধ তাকে বাইরে আনলেন। মা বারান্দায় দাঁড়িয়ে নতনেত্রে চেয়ে রইলেন। [স্বামী] ত্রিগুণাতীত তার সারা গায়ে গঙ্গামাটিতে প্রথমে শ্রীরামকৃষ্ণ, তারপরে শ্রীকৃষ্ণ ও অন্যান্য দেবতার নাম লিখতে লাগলেন। ছেলেটি সেই লেখা দেখতে দেখতে বলল—“ওসব নাম মুছে একটি নাম রাখো--আমি ঐ নামটি নিয়েই এতদিন বেঁচেছি—মরণের সময়ে ঐ নামটি নিয়েই যাব।”  যখন তাই করা হলো তখন সে মায়ের দিকে তাকালো বিদায় নিতে। তারপর সকলে তাকে বয়ে নিয়ে চলে গেল। সারাপথ সে চমৎকার কথা বলল। নদীতীরে পৌঁছানোমাত্র—মৃত্যু !_


পাঠের পরবর্তী অংশ আগামী পর্বে 👉

➖➖➖➖➖➖

শ্রীরামকৃষ্ণ পরিবার গ্রুপের প্রাত্যহিক মাতৃ অনুধ্যান 🙏

গ্রুপ লিংক :-

https://chat.whatsapp.com/KcZHXzYmTeeLL1s9ir1Le6?s=cl&p=a&mlu=4&ilr=4

No comments:

Post a Comment